শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রাতভর উত্তেজনা, সকালে রেল চলাচল শুরু
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ, বিক্ষোভ ও স্টেশন কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। এতে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের রেল চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে সকালে সিডিউল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে মারধরের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, স্টেশনে আনসার সদস্যদের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটির প্রতিবাদ করায় আইয়ুব আলীকে মারধর করা হয়।
এর প্রতিবাদে রাত ১০টার দিকে রাবি স্টেশন বাজার এলাকায় রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন। রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা ফিরে যান।
রাত আড়াইটার দিকে স্টেশন পরিদর্শনে আসেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম। তিনি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে কখন থেকে চলাচল স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তখন নির্দিষ্ট সময় জানানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এক যৌথ বিবৃতিতে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সরদার জহুরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে আহত শিক্ষার্থীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানানো হয়।