প্রেমের টানে দেশ ছাড়লেন পংফং, রাইসার হাত ধরে হলেন মোহাম্মদ আলী
প্রেমের কাছে কি সত্যিই কোনো সীমান্ত আছে? মানচিত্রের রেখা, হাজার মাইলের দূরত্ব কিংবা ভিন্ন ভাষা, কোনোটিই যে ভালোবাসার পথ আটকে রাখতে পারে না, তারই এক সুন্দর গল্প যেন দিনাজপুরের হিলিতে।
চীনের নাগরিক ৩৭ বছর বয়সী পংফং ভালোবাসার টানে পাড়ি দিয়েছেন বাংলাদেশে। হিলির তরুণী রাইসা আক্তারকে (২১) বিয়ে করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন তিনি। নতুন জীবনের জন্য নিজের নাম রেখেছেন মোহাম্মদ আলী।
পেশায় গার্মেন্টস বায়ার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে রাইসার পরিচয়ের গল্পটিও বেশ সাদামাটা। ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন রাইসার চাচা। সেই সূত্রেই পরিচয় পংফংয়ের সঙ্গে। প্রথমে পরিচয়, এরপর কথাবার্তা। ধীরে ধীরে মোবাইল ফোনের ওপারের সেই কথাগুলোই হয়ে ওঠে দুজনের প্রতিদিনের অপেক্ষা, ভালো লাগা আর ভালোবাসার গল্প।
দূরত্ব ছিল দুই দেশের। ভাষা ও সংস্কৃতিতেও ছিল ভিন্নতা। তবুও হৃদয়ের ভাষা যেন দুজনের কাছে একই ছিল। একসময় সেই ভালোবাসা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; নিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের রূপ।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন পংফং। এরপর গাজীপুর আদালতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে রাইসাকে বিয়ে করেন তিনি। নাম বদলে হয়ে যান মোহাম্মদ আলী। দুই ভিন্ন দেশের দুই মানুষের ভালোবাসা সেদিন যেন আনুষ্ঠানিকভাবে বাঁধা পড়ে নতুন এক বন্ধনে।
বিয়ের পর বৃহস্পতিবার রাতে নবদম্পতি পৌঁছান রাইসার হিলির মাঠপাড়ার বাড়িতে। চীন থেকে আসা জামাইকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষ। নবদম্পতিকে ঘিরে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। কৌতূহলী মানুষের চোখে-মুখে ছিল নতুন অতিথিকে দেখার আগ্রহ, আর স্বজনদের মাঝে ছিল আপন করে নেওয়ার উচ্ছ্বাস।
একসময় যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল দূরদেশের একজন মানুষের সঙ্গে কথোপকথনে, সেই সম্পর্ক আজ এসে থেমেছে হিলির ছোট্ট এক বাড়ির উঠানে। রাইসার হাত ধরে মোহাম্মদ আলীর নতুন জীবনের শুরু এখানেই।
স্থানীয়দের কাছে এই গল্প শুধু একজন চীনা যুবকের বাংলাদেশে এসে বিয়ে করার গল্প নয়। এটি যেন দুটি ভিন্ন দেশের, দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের হৃদয় দিয়ে কাছাকাছি আসার গল্প। যেখানে সীমান্ত পেরিয়ে ভালোবাসা খুঁজে নিয়েছে তার নিজের ঠিকানা।