‘আমার ছেলের বয়স যখন দুই বছর, তখন সে এই এলাকায় এসেছে। আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপ্রতিম আপনাদের কাছেই বড় হয়েছে। আপনাদের আদর-স্নেহ পেয়েছে, আপনাদের বাসায় খেয়েছে। তাই আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি।’

ছেলে অপ্রতিমকে হারানোর বেদনা নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার। রোববার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে ছেলের দ্বিতীয় জানাজার আগে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছেলের হত্যার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার দাবি করেন ফিরোজ শাহরিয়ার।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। বর্তমান বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে। এই আস্থাটা যেন ব্রেক না হয়। আমার বিশ্বাস, ব্রেক হবে না এবং সুষ্ঠু বিচার হবে।’

প্রথম জানাজার পর অপ্রতিমের মরদেহ নেওয়া হয় কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দাফনের আগে ছেলেকে হারানোর গভীর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা আজ বুঝতে পারছি।’

অপ্রতিমের শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই বছর বয়সে অপ্রতিম এই এলাকায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা অপ্রতিম স্থানীয়দের স্নেহ-ভালোবাসাও পেয়েছে। সেই এলাকার মানুষদের উপস্থিতিতেই শেষ বিদায় জানানো হলো তাকে।

অপ্রতিম শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।