<p>সরাফত আলীর স্ত্রী গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে যখন সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া উড়োজাহাজে ছিলেন, তখন বাড়িতে অবুঝ তিন সন্তানকে নিয়ে লিচুর জুসের সঙ্গে ‘বিষ’ পান করেন সরাফত। বিষক্রিয়ায় যখন সবার যন্ত্রণা শুরু হয়, তখন রাত দুইটার দিকে এক স্বজনকে ফোন করেন বিষপানের বিষয়টি জানান সরাফত।</p><p>সরাফত আলীর (৩৭) স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিষপানে তিন শিশুর মৃত্যু ও চিকিৎসাধীন থাকা তাদের বাবা, পরিবার নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। ময়নাতদন্তের জন্য তিন শিশুর লাশ আছে জেলা সদর হাসপাতালে। আর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন সরাফত আলী। তাঁর অবস্থা গুরুতর।</p>.<p>সরাফতের স্বজনেরা জানিয়েছে, স্ত্রী ফাতেমা বেগমের বিদেশ যাওয়া নিয়ে মনোমালিন্যের জেরেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। সরাফত মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন।</p><p>তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রজনীলাইন গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশুরা হলো সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), দুই ছেলে তামিম মিয়া (৭) ও শামীম মিয়া (২)। তাঁর আর কোনো সন্তান নেই।</p><p>সরাফতের বড় ভাই মারফত আলী বলেন, শুক্রবার রাত দুইটার দিকে তাঁরা বিষয়টি জানেন। তখন সরাফতের ঘরে গিয়ে সবাইকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখেন। কিন্তু দুর্গম এলাকা থেকে তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসতে সকাল সাড়ে সাতটা বেজে যায়। এর মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়।</p>.<p>মারফত আরও বলেন, সরাফতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম একসময় সৌদি আরবে ছিলেন। তিন বছর আগে তিনি দেশে আসেন। এরপর তাঁদের আরেক সন্তান হয়। সম্প্রতি ফাতেমা আবার সৌদি আরবে যেতে চাইলে সবকিছুর ব্যবস্থা করেন সরাফত। কিন্তু এক পর্যায়ে স্ত্রীর বিদেশ যাওয়ার বিষয়টিতে বেঁকে বসেন তিনি। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার একটি ফ্লাইটে ফাতেমা সৌদি আরবে রওনা দেন। এ জন্য তিন দিন আগে ঢাকায় যান তিনি।</p><p>সরাফত আলীর চাচি ফরিদা বেগম জানান, শুক্রবার তিন সন্তানকে নিয়ে বাজারে যান সরাফত। মিষ্টি খাওয়ান তাদের। বাজার থেকে একটি মোরগ কিনে আনেন। রাতে নিজে রান্না করে সন্তানদের নিয়ে খাওয়াদাওয়া করেন। তিনি আরও জানান, রাত দুইটার দিকে সরাফত ফোন করে তাঁর এক ফুফুকে বলেন, ‘আমরা চারজন বিষ খাইছি। আমরা শেষ।’ ওই নারী পরে তাঁদের ফোন করে বিষয়টি জানালে তাঁরা ওই ঘরে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন।</p>.<p>শনিবার দুপুরে পুলিশ ওই গ্রামে যায়, সরাফতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় সরাফতের থাকার কক্ষ থেকে ইয়াবা সেবনের সামগ্রী, একটি বিষের বোতল, লিচুর জুসের বোতলসহ কিছু আলামত সংগ্রহ করে।</p><p>তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা ওই গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি। অনেকেই অনেক কথা বলছেন। পুলিশ সব বিষয় খতিয়ে দেখছে।’</p>