সংবিধান সংশোধনে মতামত নিতে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। আজ রোববার বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে এই মতবিনিময় সভার বিষয়টি রয়েছে। তবে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ঐক্যের সনদে স্বাক্ষর করা জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সাতটি দল, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস এই মতবিনিময়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নাগরিক ঐক্য, গণফোরামসহ ১০টি দল বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ে যাবে। সনদে স্বাক্ষর করা এনডিএমের চেয়ারম্যান ও দুটি জোটের নেতারা সংসদ নির্বাচনের আগেই বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। সভায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি অপর দুটি দল।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়। গত বছরের ১৭ অক্টোবর ২৪টি রাজনৈতিক দল এই সনদে স্বাক্ষর করে। পরে গণফোরাম এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করায় স্বাক্ষরকারী দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬টি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল।

জাতীয় সংসদ ভবনে আজ বেলা আড়াইটায় সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হবে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে কমিটির মতবিনিময় সভা হবে। দলগুলোর কাছে পাঠানো বৈঠকের আমন্ত্রণপত্র সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিশেষ কমিটি। সভায় দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে দল বা জোটের মতামত উপস্থাপন করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলোর মধ্যে সনদে স্বাক্ষর করা সাতটি দল যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ঐক্যের সমন্বয়ক। এই দলগুলো হলো জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও লেবার পার্টি। ১১ দলীয় ঐক্য আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবে। সূত্র বলেছে, সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিরোধী দলের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজকের পত্রিকাকে গতকাল বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই ইস্যুতে আমাদের এমপিরা সংসদে প্রতিবাদ করেছেন, ওয়াকআউট করেছেন। সুতরাং বিশেষ কমিটির বৈঠকে আমাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।’

এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য ও দলটির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, তাঁরা বৈঠক বর্জন করবেন। তাঁদের জোটের কেউ এতে অংশ নেবেন না।

১১ দলীয় ঐক্য থেকে বের হয়ে গেলেও খেলাফত মজলিসও বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা আজ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

সনদে স্বাক্ষরকারী অন্য দলগুলোর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও মতবিনিময় সভায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন।

সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।

সনদে স্বাক্ষরকারী আরেকটি দল এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। দলটির মহাসচিব মোমিনুল আমিনও গত এপ্রিলে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফারহাদও দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। ১২ দলীয় জোটের প্রধান দুই নেতাও দল বিলুপ্ত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেন।

অবশ্য জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মধ্যে মতবিনিময় সভায় যোগ দেবে নাগরিক ঐক্য, গণফোরাম, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাকের পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও আমজনতার দল।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বৈঠকে সংস্কারের কথা বলব, গণভোটের কথা বলব। সংবিধান তো সংশোধনই করতে হবে। এ নিয়ে বর্তমান বিতর্কের প্রয়োজন নেই। কারণ, সংবিধানে কোনো ধারা-উপধারা বাদ দেওয়া বা যুক্ত করা তো সংশোধনই। এটা সংসদে পাস হতেই হবে।’

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘তাঁরা তো যা করার করবেনই। এরপরও আমরা আমাদের কথা বলব। আমরা বাহাত্তরের (১৯৭২) সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলোকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাদের সঙ্গে আপস নেই, তা-ই বলব।’

নির্বাচনের আগে সরকারের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। লংমার্চের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও...

১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ-জামায়াতসহ সব দল এক হয়ে স্বৈরাচার এরশাদের কোলে চড়ে ভোট করেছিল। ওই সময় আমার নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছিল, স্বৈরাচারের সঙ্গে কোনো আপস নেই।...আন্দোলন সংগ্রাম করে তাদের ঘরে ঢুকিয়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচন করে...

দেশের মানুষের গণরায় উপেক্ষা করে বাংলার ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক। আজ শনিবার সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন...

জনগণকে এক দফার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ শনিবার সিরাজগঞ্জ জেলার হাটিকুমড়ুল এলাকায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন...